পোশাক কারখানা বন্ধ করে দেওয়ায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ


২৯ জানুয়ারি ২০২২(বিবিনিউজ):গাজীপুরে নাসা গ্রুপের লিজ কমপ্লেক্স নামের পোশাক কারখানা বন্ধ করে দেওয়ায় বিক্ষোভ করেন শ্রমিকেরা। পরে পুলিশ লাঠিপেটা করে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। আজ শনিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে গাছা থানার কুনিয়া বড়বাড়ী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী ইসমাইল হোসেন বলেন, কারখানাটি বন্ধ করে দেওয়ার পর শ্রমিকেরা বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁরা উত্তেজিত হয়ে গেলে পুলিশ লাঠিপেটা করে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে আসেন।

কারখানার শ্রমিকেরা জানান, গতকাল শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি শেষে আজ কাজে যোগ দিতে এসে কারখানার প্রধান ফটকে বন্ধের নোটিশ ও শিল্প পুলিশ মোতায়েন দেখতে পান। পরে শ্রমিকেরা উত্তেজিত হয়ে পড়লে পুলিশ তাঁদের লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

শ্রমিকেরা আরও জানান, নতুন বছরে বেতন–ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরে তাঁরা কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আসছিলেন। এমন অবস্থায় ২৬ জানুয়ারি কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে শ্রমিকেরা আতঙ্কিত হয়ে কর্মস্থল ছেড়ে কারখানার কম্পাউন্ডে অবস্থান নেন। পরে কারখানার নির্বাহী পরিচালক খন্দকার মোশাররফ হোসেন পুনরায় কাজে যোগ দিতে বলেন।

একপর্যায়ে বেশ কিছু শ্রমিককে নির্বাহী পরিচালক ও সিকিউরিটি ইনচার্জ গালিগালাজ ও মারধর করেন। এর প্রতিবাদে শ্রমিকেরা ক্ষিপ্ত হয়ে কারখানা থেকে বের হয়ে যান। পরদিন কারখানায় কাজে যোগ দিতে আসেন এবং দিনভর কোনো দিকনির্দেশনা না পেয়ে অলস সময় কাটিয়ে বিকেল পাঁচটার দিকে বাসায় ফিরে যান।

এদিকে কারখানার পরিচালক গাজী মোহাম্মদ জাবের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, শ্রমিকেরা তাঁদের নির্দেশ অমান্য করে কাজ বন্ধ রেখেছেন এবং আশরাফ নামের এক কর্মকর্তাকে বেধড়ক মারধর করেছেন। এ ছাড়া কারখানায় ঢুকে আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন। কম্পিউটার, সিসি টিভি, ল্যাপটপ, সার্ভারসহ কর্মকর্তাদের ১২টি মুঠোফোন লুট করেছেন। অফিস থেকে ১৫ লাখ টাকা চুরিও হয়েছে। এসব কারণে ২০০৬ সালের শ্রম আইনের ১৩(১) ধারা অনুযায়ী আজ থেকে কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

কারখানার কোয়ালিটি ইন্সপেক্টর আল আমিন বলেন, বেশ কয়েক মাস ধরে বেতন–ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন তাঁরা। কিন্তু কর্তৃপক্ষ উল্টো শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে। এখন পুলিশের কারণে তাঁরা প্রতিষ্ঠানেও যেতে পারছেন না। কিন্তু শ্রমিকেরা হঠাৎ চাকরি ছেড়ে কোথায় যাবেন। তাঁদের তো নতুন চাকরি পেতেও সময় লাগবে।

Related posts

Leave a Comment